Saturday, October 10, 2015

বিচারের অপেক্ষায় পরিচালক রাজের দুই মামলা

বিচারের অপেক্ষায় পরিচালক রাজের দুই মামলা

জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশিত: ০৮:৪২ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০২২

নজরুল ইসলাম রাজ একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও অভিনেতা। একই সঙ্গে তিনি ‘রাজ মাল্টিমিডিয়ার’কর্ণধার। কিন্তু এসব ছাড়িয়ে এখন তিনি মাদক ও পর্নোগ্রাফি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মাদকদ্রব্য ও পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। যেগুলো এখন বিচারের অপেক্ষায়।

এরই মধ্যে দুই মামলার অভিযোগ আমলে নিয়েছেন বিচারিক আদালত। মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। পর্নোগ্রাফি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ঠিক করা আছে। দুই মামলাই দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। অন্যদিকে রাজের আইনজীবী ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

রাজের বিরুদ্ধে করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটি ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। গত ৩১ মার্চ আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর ১১ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। কিন্তু এদিন বিচারক না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এজন্য আগামী ২৯ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

ঢাকার অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান চৌধুরী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় রাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। দ্রুতই এটি শেষ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতারের পর আদালতে নেওয়ার সময় নজরুল ইসলাম রাজ

অন্যদিকে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। গত ১১ আগস্ট এ মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। আগামী ১০ নভেম্বর অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, পর্নোগ্রাফি মামলাটির অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন আদালত। ১০ নভেম্বর মামলার চার্জগঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এদিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হবে। এরপর সাক্ষ্য নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে মামলাটি।

এদিকে রাজের আইনজীবী মামুন উর রশীদ বলেন, রাজের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে। সাক্ষীর জন্য দুটি ধার্য তারিখ পার হয়েছে। কিন্তু বিচারক না থাকায় সাক্ষ্য হয়নি মামলার। অন্যদিকে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলাটি অভিযোগ গঠন শুনানির অপেক্ষায়। আশা করছি আমরা ন্যায়বিচার পাবো। কারণ রাজ নির্দোষ।

নায়িকা পরীমনির সঙ্গে রাজ

২০২১ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে চিত্রনায়িকা পরীমনির রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে ওইদিন রাত ৮টার দিকে তাকে আটক করে র‌্যাব সদরদপ্তরে নেওয়া হয়। আটককালে নায়িকার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করার কথা জানায় পুলিশের এ এলিট ফোর্স।

একইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে নজরুল ইসলাম রাজের বনানীর বাসায়ও অভিযান শুরু করে র‌্যাব। অভিযান শেষে রাজকে রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে আটক করে নিয়ে যান র‌্যাব সদস্যরা। রাজের বাসা থেকেও মাদক ও পর্নোগ্রাফি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব।

এরপর ৫ আগস্ট পরীমনির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে র‌্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা করে। আর রাজের বিরুদ্ধে করা হয় দুটি মামলা। একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে, অন্যটি পর্নোগ্রাফি আইনে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাদকদ্রব্য মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন। এরপর ২৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একই সময়ে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় রাজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

রাজের বাসা থেকেও উদ্ধার করা পর্নোগ্রাফি তৈরির সরঞ্জাম

মাদকদ্রব্য মামলার অভিযোগপত্রে রাজের সহযোগী সবুজ আলীকেও আসামি করা হয়। সবুজ ছিলেন রাজের অফিসের পিয়ন। অন্যদিকে ঝন্টু মিয়ার পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে প্রাথমিকভাবে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয় ১৮ জনকে।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ২০১৪ সাল থেকে নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে বিনিয়োগ শুরু করেন রাজ। একপর্যায়ে তিনি ‘রাজ মাল্টিমিডিয়া’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসময় বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে মাদকসেবন ও বেচাকেনা করতেন তিনি। মাদক কারবারে তার নিজস্ব দুটি জিপ গাড়ি ব্যবহার করা হতো।

২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর জামিন পান রাজ। একই বছরের ২২ নভেম্বর সবুজের জামিন মেলে। এছাড়া একই বছরের ২৬ অক্টোবর জামিন পান নায়িকা পরীমনি।

রাজের বাসা থেকে মাদক ও সিসা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ

রাজের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর ৩৬ (১) এর ২৪ (খ)/১০(ক)/৩৮ ধারায় অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে মাদক কারবারের কাজে সক্রিয়ভাবে সহায়তায় সবুজ আলীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬ (১) এর ২৪ (খ)/১০(ক)/৩৮/৪১ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

জেএ/জেডএইচ/এসএইচএস/এএসএম


শেয়ার করুন

0 coment rios: